মঙ্গলবার,২৬শে মে, ২০১৫ ইং,সকাল ১১:২৫  

রাজনৈতিক মামলায় আদালতে চার্জশীট প্রদানের খবরে নতুন করে আতঙ্ক ॥ নেতাদের নামে মামলার স্তুপ বাড়ছে

বিএনপি-জামাত নেতাদের না’গঞ্জে ফেরা অনিশ্চিত
আত্মগোপনে থাকা নারায়ণগঞ্জের বিএনপি ও জামাতের শীর্ষ নেতাদের নারায়ণগঞ্জ ফেরা প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পরেছে। পৃথক দু’টি মামলায় যাদের আসামী করা হয়েছে এদের অধিকাংশ নেতাই রাজপথে সক্রিয় ভ’মিকা পালন করে থাকে। আর এসব নেতাদের বিরুদ্ধেই আদালতে চার্জশীঠ প্রদান করা হয়েছে। যে কারনে বিএনপির ও অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সহসাই নারায়ণগঞ্জে ফিরে আসা হচ্ছে না। নেতাদের অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট প্রদানের খবরে নতুন করে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনসহ জামাত-শিবিরের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে ২০ দলীয় জোটের সরকার বিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচি টানা অবরোধে নারায়ণগঞ্জ শহরের পৃথক স্থানে গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতের ৬০জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর দায়ের করা চার্জশীট দুটিতে দুটি ৪১জনকে সাক্ষী দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, তার ছোট ভাই মহানগর যুবদলের আহবায়ক কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ সহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর আবেদন করেছে তদন্তকারী কর্মকর্তা। দুইটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এসআই সাখাওয়াত হোসেন জানান, গত ১২ জানুয়ারী সকালে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেডের উল্টোপাশে সড়কে উৎসব পরিবহনের একটি বাস ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে গাড়ীর চালক রাজু বাদী হয়ে ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় মহানগর যুবদলের আহবায়ক কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে প্রধান করে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লা, ছাত্রদল নেতা আবুল কাউসার আশাকে আসামী করা হয়। এ মামলায় ২১জনকে সাক্ষী দেখিয়ে ২৫জনকে অভিযুক্ত ও আশা সহ ৮জনকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া মামলায় জামিন বা গ্রেফতার না হওয়ায় ১৭জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর আবেদন করা হয়েছে। অপরদিকে ৯ জানুয়ারী সকালে শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় তৈমূর আলম খন্দকারের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়ে গাড়ী ভাংচুর করে পুলিশের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে দুই পুলিশ আহত আহত হয়। পরে ৭ রাউন্ড গুলি ছুড়ে ৩জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এঘটনায় সদর মডেল থানার এসআই বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে তৈমুর আলম, বারী ভূইয়া, খোরশেদ, জাহাঙ্গীর কমিশনার, এটি এম কামাল, জেলা ছাত্র দলের আহবায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মাসুদসহ ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ২০জনকে সাক্ষী দেখিয়ে ৪৫ জনকে অভিযুক্ত ও ৫ জনকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া মামলায় জামিন বা গ্রেফতার না হওয়ায় ২৩জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর আবেদন করা হয়েছে। ১২ জানুয়ারী সকালে শহরের নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের উল্টোপাশে সড়কে উৎসব পরিবহনের একটি বাস ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তরা হলো- কাউন্সিলর খোরশেদ, জামায়াত নেতা কাদের মোল্লা, হাসান আহমেদ, মনির, মোশারফ, রশু, রুহুল আমিন, কাশু, ইদ্রিস, এড. মাইনুদ্দিন, পরিবহন শ্রমিক তোফাজ্জল খোকা, রনি, সেন্টু, আরিফ, শাহেদ, জুলহাস, রানা মজিব, আক্তার হোসেন খোকন শাহ, জামাল উদ্দিন কালুর ছেলে রিয়াদ চৌধুরী, রেজগী আকরাম, সাঈয়া, মনির, মামুন সহ ২৫ জন। এ মামলায় অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে, আবুল কাউছার আশা, শাহীন শেখ, এমডি ফাহিম, চেলা বাবুল, মেজবাহ উদ্দিন স্বপন ও জিয়াসহ ৫জন। ৯ জানুয়ারী সকালে শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় গাড়ী ভাংচুর ও পুলিশের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করার মামলায় অভিযুক্তরা হলো- তৈমুর আলম খন্দকার, খোরশেদ, এটি এম কামাল, সুরুজ্জামান, সুমন, তোফায়েল আহমেদ, ময়নার জামাই মাসুদ, সরদার শাহজালাল, এড. সরকার হুমুয়ান কবীর, রানা মজিব, এড. বারী ভুইয়া, খোকন শাহ, রোবহান উদ্দিন, এড. আব্দুল হামিদ খাঁন ভাষানী, আকরাম প্রধান, রাশেদ জামাল, নুরুন্নাহার, জেলা ছাত্র দলের আহবায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, ছাত্রদল নেতা আজিজ, রিপন, রিয়াদ চৌধুরী, যুবদল নেতা মাসুদ রানা, লিখন সরকার, বিল্লাল হোসেন, দীপু চৌধুরী ও স্বপন খন্দকার, নূরে আলম, জুয়েল, সালাউদ্দিন দেওয়ান, গোলাম ফারুক, বাবু তালুকদার, খোরশেদ আলম টুটুল, সাব্বির আহমেদ চৌধুরী শুভ, শাহীন আলম শাহীন, শফিকুল ইসলাম, শামীম, মেহিদী হাসান রাজু, আল আমিন, রশু, মশিউর রহমান রনি, নাদিম, আনোয়ার সাহমুদ বকুল, শহিদুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর কমিশনার, হাসান আহমেদ ও জুলহাস। এ মামলায় অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে, দেলোয়ার হোসেন, পিচ্চি মনির, ফারুক, আজিজ ও মানিকসহ ৫জন। অপরদিকে, টানা তিন মাসের সরকার বিরোধী আন্দোলন চালাকালে বিএনপি ও জামাতের নেতাদের বিরুদ্ধে এশাধিক মামলা দায়ের হয়েছে জেলার বিভিন্ন থানায়। বিএনপির একাধিক সূত্রে জানাগেছে, বিএনপি, জামাত ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের কিছু কিছু নেতার বিরুদ্ধে এশাধিক মামলা রয়েছে। কারো কারো বিরুদ্ধে ৮/৯টি আবার কারো কারো নামে ২৫/২৬টি করে মামলা রয়েছে। আগের ও আন্দোলনকালীন সময়ে এসব মামলা নিয়েও নেতারা বিপাকে রয়েছে। আন্দোলনের আগের দায়েরকৃত মামলা হাজিরা দিতে না পারার কারনে ওনসব মামলায় নেতাদের বিরুদ্ধে গেস্খফতারী পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। এয়াড়া নতুন করে যে সমস্ত মামলা রয়েছে সে সব মামলায় আদালতে চার্জশীট জামা দিতে শুরু করেছে মামলার গুলোর তদন্তকারী কর্মকর্তারা। এয়াড়া সরকারের পক্ষ থেকেও এসব রাজনৈদিক মামলায় দ্রুত চার্জশীট জামা দেয়ার তাগিদ রয়েছে বলে নেতাদের নামে দায়েরকৃত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছে।

  বিনোদন বার্তা
  মাঠ বার্তা
  এই কাল - এই সময়
  প্রবাসে-পরবাসে
  বানিজ্য বার্তা
  ফিচার বার্তা
  তথ্য ও প্রযুক্তি
  স্বাস্থ্য কথা
  অপরাধ বার্তা