মঙ্গলবার,৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ইং,সকাল ১১:২৭  

নারায়নগঞ্জে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে চলছে ঠান্ডা লড়াই ॥ দিনে দিনে দূরত্ব বেড়েই চলছে

যৌথ কর্মসূচীতে নেই বিএনপি-জামাত
নারায়নগঞ্জে ২০ দলীয় জোটের প্রধান শরীক দুই দল বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে ঠান্ডা লড়াই চলছে। দীর্ঘ দিন ধরে ভেতরে ভেতরে তুসের আগুনের মতো ঝলছে দু’দলের কোন্দল। দলের শীর্ষ নেতারা তাদের কোন্দলের বিষয়টি চেপে গেলেও বাস্তবতা ভিন্ন। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও জামাতকে এক সঙ্গে কোন ধরনের কর্মকান্ডও করতে দেখা যায়নি। অপ্রকাশ্যে একে অপরের সম্পর্কে বিষোদগার করা থেকে বিরত থাকছেন না। জামায়াত-বিএনপির গোপন রেষারেষি বন্ধ না হলে আগামী দিনে সরকার বিরোধী আন্দোলনে সফলতার মুখ দেখা নিয়ে সন্ধিহান দু’দলের তৃণমূলের নেতারা। খোজ নিয়ে জানা যায়,জামায়াত বিএনপির ইমেজের লড়াই দীর্ঘ দিনের। কেউই চাচ্ছে না দলীয়ভাবে কেউ কাউকে টপকিয়ে যাক। এছাড়া মাঠ দখলে ‘কে’ এগিয়ে থাকবে তা নিয়ে ও দ্বন্ধ কম না। সূত্র জানায়, ৫জানুয়ারি নির্বাচনের আগে মাঠ দখলে রাখতে মরিয়া ছিল জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবির। আর অন্যদিকে বিএনপির যুব সংগঠন ‘যুবদলের’ সংগঠনিক তৎপরতা দুদলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে আলোচিত হয়। এমনকি পুলিশের উপর শিবিরের মারদাঙ্গা আক্রমনের খবর ও দেশব্যাপী বেশ আলোচিত হয়। সূত্র জানায়, রাজনীতির মাঠে জামায়াত বিএনপি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন সংগ্রামের তৎপরতায় বাঁধা হয়ে দাড়ায় শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষের ঘটনা। সেদিনের ঘটনা নিয়ে দুদলের মধ্যে সৃষ্ট হয় চরম বিরোধ। সূত্র জানায়, জামায়াত বিএনপির ঠান্ডা লড়াই জিড়িয়ে রাখতে চাইছে বিএনপির সুবিধাভোগী একটি গ্রুপ। আর এর নেপথ্যে রয়েছে আওয়ামীলীগে এবং সহযোগী কয়েকটি সংগঠনের নেতাদের ইন্ধন। তারা চাচ্ছে বিএনপি জামায়াতের দ্বন্ধটা প্রকট হলে মাঠের রাজনীতিতে আওয়ামীলীগ সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। আর এজন্য তারা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে মাসুকুল ইসলাম রাজীবকে। জোটের অন্যতম শরীক হওয়ার পরও জামায়াতের বিরুদ্ধে রাজীবের কঠোর অবস্থান ও তারই জানান দেয়। এব্যাপারে বিএনপির একধিক নেতা মন্তব্য করেছেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ঠিক করতে পারছেনা নারায়নগঞ্জ জেলা ছাত্র দলের আহবায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজিব। তারা মনে করেন, রাজিব তীব্র জামায়াত শিবির বিরোধী মতাদর্শ পোষন করেন। যেমনটি করেন আওয়ামীলীগ ও বামপন্থী দলগুলির নেতাকর্মীরা। কিন্তু রাজিবের দল বিএনপি ও ছাত্রদল জামায়াত শিবিরকে কখনোই প্রতিপক্ষ মনে করেনা। বরং বিশ দলীয় জোটের মূল দুটি শরীক দল হল বিএনপি ও জামায়াত। এ দুটি দল গত সাড়ে পাঁচ বছর যাবৎ বামপন্থী দল প্রভাবিত আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে মরনপন আন্দোলন করে আসছে। যদিও এই আন্দোলনে রাজিবকে কখনো তেমন সক্রিয় দেখা যায়নি। কিন্তু সম্প্রতি রাজিব তার মূল প্রতিপক্ষকে কীভাবে মোকাবেলা করবেন সেই বিষয়ে কোন পরিকল্পনা না করে শিবিরের সাথে বিরোধে জড়িয়েছেন যা কিনা সরকার বিরোধী আন্দোলনের পিঠে ছুড়িকাঘাত বলে বিএনপির অনেক নেতা মনে করেন। জামায়াত বিএনপির ভেতরে ঠান্ডা লড়াই চলছে কিনা? এমন প্রশ্নে জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও ২০দলীয় ঐক্য জোটের নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক তৈমুর আলম খন্দকার এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছিলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। এর আগেও তৈমুর আলম খন্দকার বলেছিলেন, খালেদা জিয়ার নির্দেশ রয়েছে নারায়নগঞ্জে যেন আমরা বিশ দলীয় ছাত্র ঐক্য এবং শ্রমিক ঐক্য গড়ে তুলি। তাই এই ঐক্যের পথে কেউ যদি বাধার সৃষ্ঠি করে তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যাবস্থা নেয়া হবে। নারায়নগঞ্জ নগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল জানান- বিএনপি বা জামায়াত এর শক্তিশালী সংগঠন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। একসাথে কাজ করতে গেলে ভুল হয়। আমরা বিব্রত কিন্তু আমাদেও মাঝে টানাপোড়ন নেই। দুটি সংগঠনের মাঝেই আলোচনা হয়েছে, সমাধান হবে শীখ্রই। আমরা চাই মিলে মিশে কাজ করতে। ভুল বোঝা বুঝির অবসান ঘটলেই মামলা তুলে নেয়া হবে। নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্র দলের আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, ঘটনা ছাত্রশিবির শুরু করছে, কেন করছে ওরাই ভাল বলতে পারবে। ওরা শরিক দল হলেইবা কি। ছাত্রদল বড় দল।

  বিনোদন বার্তা
  মাঠ বার্তা
  এই কাল - এই সময়
  প্রবাসে-পরবাসে
  বানিজ্য বার্তা
  ফিচার বার্তা
  তথ্য ও প্রযুক্তি
  স্বাস্থ্য কথা
  অপরাধ বার্তা